শ্রমিকদের দুই গ্রুপে দ্বন্দ্বের জেরে নারায়ণগঞ্জে দুটি পোশাক কারখানায় ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বেলা ১১টায় ফতুল্লার শাসনগাঁ এলাকার মাদার কালার ও আরএস গার্মেন্টে ভাংচুর করেন শ্রমিক ও বহিরাগতরা। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বিজিবি এসে ধাওয়া দিলে শ্রমিকরা চলে যান। হামলার ঘটনায় উত্তেজনা দেখা দিলে আশপাশের কয়েকটি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।
মাদার কালার গার্মেন্ট কারখানার জিএম হুমায়ুন কবির জানান, শনিবার সকালে তাদের কারখানার রিপন নামে এক অপারেটর চারদিন অনুপস্থিত থাকার পর কাজে যোগ দেন। তিনি কাজ করে বসে ছিলেন। লাইন সুপারভাইজার মিজান তাকে ধমক দিয়ে চারদিন কাজে না আসার কারণ জানতে চান। এতে রিপন ক্ষুব্ধ হয়ে সুপারভাইজার মিজানকে মারধর করেন। পরে অপারেটর রিপন অন্য শ্রমিকদের নিয়ে আবারো মিজানকে মারধর করেন। বিষয়টি সমাধানে কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের দুজনের সঙ্গে কথা বলে। এ সময় অন্য শ্রমিকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে অপারেটর রিপনকে মালিক পক্ষ মারধর করে আটকে রেখেছে। এতে শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে উঠলে কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।
ঘটনার পর পরই একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষকারী বাহিনী কারখানার আশপাশে অবস্থান নিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ শিল্প পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে দুটি গামেন্ট কারখানায় ভাংচুর হয়েছে। এর পেছনে অন্য কোনো কারণ বা আধিপত্য বিস্তারের কোনো ঘটনা আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শ্রমিক অসন্তোষের পেছনে কেউ ইন্ধন দিয়ে থাকলে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।’